সম্প্রতি ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক চেয়ারম্যান ডেভিড বার্নস্টেইন ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য টাইমসে একটি কলাম লিখেছেন। সেখানে তিনি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিটিতে ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলার কড়া সমালোচনা করেন এবং বলেন, সিটির শাস্তি দ্রুত কার্যকর করতে হবে এবং বিষয়টি প্রকাশ্য ও স্বচ্ছভাবে নিষ্পত্তি করতে হবে। সম্প্রতি সিটির বিরুদ্ধে ১১৫টি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, এবং খবর অনুযায়ী এর বেশিরভাগই সত্য প্রমাণিত হয়েছে।

ম্যানচেস্টার সিটির নিয়মভঙ্গ নিয়ে সাবেক চেয়ারম্যান ডেভিড বার্নস্টেইনের কলাম

শুক্রবার খবর এল: আমি যে ক্লাবে দায়িত্ব পালন করেছি, সেই ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে ১১৪টি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে রায় দিয়েছে স্বাধীন কমিশন (ফল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়নি, ক্লাবের আপিলের অধিকার আছে)। এটা পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত না হলেও আমাকে গভীরভাবে হতবাক করেছে। আমি দশ বছর সিটির পরিচালনা পর্ষদে ছিলাম, যার পাঁচ বছর চেয়ারম্যান হিসেবে; কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা, আমি ৭০ বছর ধরে এই দলের সমর্থক।

এটা সত্য যে গত ১৫ বছরে ক্লাবের অর্জনে আমি আনন্দিত হয়েছি, কিন্তু এখন দেখছি গুরুতর নিয়মভঙ্গের কারণে সেই গৌরবে কালিমা লেগেছে। চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার সময় আমি বিশেষভাবে জোর দিয়েছিলাম যে ম্যানচেস্টার সিটি ক্লাবের তাৎপর্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্লাবকে সমর্থকদের সঙ্গে একাত্ম থাকতে হবে, সৎ ও স্বচ্ছ হতে হবে এবং নিয়ম মেনে চলতে হবে। দুঃখজনকভাবে, এই নীতি এখন যেন ভুলে যাওয়া হয়েছে।
তাহলে শুক্রবারের খবর আমাদের কোথায় দাঁড় করাল? রায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের আগেই খবর ফাঁস হয়ে গেছে, যা দুঃখজনক। তিন সপ্তাহ আগে দ্য সানডে টাইমসে যেমন লিখেছিলাম, এই আধা-বিচারিক তদন্ত প্রক্রিয়ায় অনেক বেশি সময় লেগেছে। পরবর্তী আপিল প্রক্রিয়ার নিষ্পত্তিতেও যদি আবার কয়েক বছর লাগে, তাহলে একের পর এক জটিল পরিণতি আরও খারাপ হবে।
এই মৌসুমে লিগ শিরোপার অন্যতম ফেভারিট সিটি, কিন্তু এখন আমরা জানি না এই মৌসুমের ফল বৈধ বলে গণ্য হবে কি না, তাই আমরা যে প্রতিযোগিতা দেখছি তার আসল মূল্য কতটা, তা বিচার করাও কঠিন। তাই সিদ্ধান্তের গতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরেকটি অসন্তোষের জায়গা হলো স্বচ্ছতার অভাব। কিছুদিন আগেও আমরা ইনফান্তিনো ও ফিফার নিন্দা করেছিলাম, অভিযোগ করেছিলাম যে তারা গোপনে বাইরের বিনিয়োগকারী আনছে, যথাযথ তদারকি নেই এবং কাজকর্ম চলছে লুকিয়ে। প্রিমিয়ার লিগের এই প্রক্রিয়ার গোপনীয়তাও সমান উদ্বেগজনক, যা যুক্তরাজ্যের বেশিরভাগ বিচারিক মামলার নিষ্পত্তির ধরনের সঙ্গে একেবারেই বেমানান। গোপন শুনানির জন্য কুখ্যাত স্টার চেম্বার আদালত তো সেই ১৬৪১ সালেই বিলুপ্ত হয়েছে।
এই দোষী রায়ের পেছনের ধারাবাহিক প্রভাব নিয়ে যত ভাবি, ততই দেখি পরিস্থিতি কত জটিল। চূড়ান্তভাবে কী শাস্তি দেওয়া হবে, তা আগাম অনুমান করতে চাই না, শুধু এটুকু বলতে চাই: কেবল জরিমানা যথেষ্ট শাস্তি নয়। এই ১১৪টি নিয়মভঙ্গ অত্যন্ত গুরুতর, এর জন্য আরও মৌলিক শাস্তি প্রয়োজন।
কিন্তু এতে আবুধাবির মালিকপক্ষের ওপর কী প্রভাব পড়বে? এই বিনিয়োগ একসময় তাদের দারুণ ভাবমূর্তি এনে দিয়েছিল, কিন্তু এখন কেলেঙ্কারির কারণে তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়তে হবে। অবশ্যই ক্লাবের সার্বিক পরিচালনার দায় পরিচালনা পর্ষদের। এই বিপর্যয় ঘটানোর পর পরিচালকেরা কি পদে থাকতে পারবেন? ফুটবল ক্লাব পরিচালনার জন্য তারা কি এখনো "উপযুক্ত ব্যক্তি" হওয়ার যোগ্যতা রাখেন? স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা হয়তো এ বিষয়ে মত দেবে।
স্পনসররা কী প্রতিক্রিয়া দেখাবে? তাদের চুক্তিতে প্রায় নিশ্চিতভাবেই সুনামহানি সংক্রান্ত ধারা আছে। ক্লাবের কর্মীরা চাকরি হারানোর আশঙ্কায় থাকবেন। খেলোয়াড়েরাও কি প্রভাবিত হবেন? ক্লাব শেষ পর্যন্ত অবনমিত হলে এই আন্তর্জাতিক তারকারা কী সিদ্ধান্ত নেবেন? আমার মনে হয় আমার শহরের ক্লাব বার্নেট লিগে সিটির বিপক্ষে খেলতে পেলে খুশিই হবে, কিন্তু হালান্ড হয়তো ততটা উচ্ছ্বসিত হবেন না।
এ ঘটনার আরও কিছু বিস্তৃত ও ভাবনার খোরাক জোগানো দিক আছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ব্যাপারে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর অত্যন্ত সংবেদনশীল। আমি কল্পনা করতে পারি, এই সপ্তাহান্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে ছোটাছুটি করছেন। যে তদন্ত প্রক্রিয়া দোষী রায় দিয়েছে, তা স্বাধীন এবং কোনোভাবেই বাইরের হস্তক্ষেপের শিকার হতে পারে না, এমনকি ডাউনিং স্ট্রিট বা হোয়াইটহল "জাতীয় স্বার্থের" যুক্তি দেখালেও না। একইভাবে, স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা হস্তক্ষেপ করলে তার কাজও সত্যিকার অর্থে বাইরের চাপমুক্ত হতে হবে।
প্রিমিয়ার লিগ, যুক্তরাজ্যের এই মূল্যবান জাতীয় সম্পদ, এখন বড় আঘাতের ঝুঁকিতে। গোটা বিশ্ব গভীর মনোযোগে তাকিয়ে থাকবে, তাদের মধ্যে অনেকেই অন্যের দুর্দশায় আনন্দ পাবে। ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে কি না, তা নির্ভর করছে পুরো বিষয়টি দ্রুত, প্রকাশ্যে ও ন্যায্যভাবে নিষ্পত্তি হয় কি না এবং বাইরের হস্তক্ষেপ ঠেকানো যায় কি না তার ওপর।
শেষে সমর্থকদের এবং বৃহত্তর ফুটবল অঙ্গনের কথা না বলে পারছি না। সিটির অনেক সমর্থক একজোট হয়ে থাকবেন এবং আরও জোর গলায় গাইবেন "আমরা তো এখানকার নই"। কিন্তু অন্যরা হতাশ, বিভ্রান্ত, লজ্জিত ও ক্ষুব্ধ হবেন, আমি তাঁদেরই একজন।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে অনেক বছর লাগবে। অন্য ক্লাবগুলোর সমর্থকদের মনোভাব হবে খুবই জটিল, তার মধ্যে থাকবে প্রতারিত হওয়ার অনুভূতি: তারা বুঝবেন, সে সময় দলগুলো সমান মাঠে লড়াই করেনি। তারা ফুটবলীয় ন্যায়বিচার দাবি করবেন, এমনকি নিজেদের ক্লাবকে সিটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও তুলবেন। সত্যিই এক জট পাকানো অবস্থা।
